ঢাকা-শরীয়তপুর ৪ লেন সড়ক: দুই মেয়াদ শেষেও কাজের দেখা নেই, জনদুর্ভোগ চরমে



পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকার সঙ্গে শরীয়তপুরের সরাসরি ও দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া চার লেন সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে। গত ৩০ জুন প্রকল্পের দ্বিতীয় দফার নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলেও সড়কের নির্মাণকাজ এখনো পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি।

প্রকল্পের মোট ২৭ কিলোমিটারের মধ্যে প্রায় ৯ কিলোমিটার অংশের কাজ এখনো শুরুই করা সম্ভব হয়নি। সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রকল্পের দুটি প্যাকেজে কার্যত নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে; নেই কোনো শ্রমিক কিংবা ভারী যন্ত্রপাতির আনাগোনা।

নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) তৃতীয় দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করলেও, প্রকল্পটি কবে নাগাদ শেষ হবে, সে বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট সময়সীমা দিতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, কাজের এই দীর্ঘসূত্রতার প্রধান কারণ জমি অধিগ্রহণে জটিলতা। প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় ২৬০ একর জমির মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ১৮২ একর জমি অধিগ্রহণ করে সওজকে হস্তান্তর করা হয়েছে। জমি বুঝে না পাওয়ার কারণে জেলা শহর থেকে জাজিরা ও জাজিরা টিঅ্যান্ডটি থেকে নাওডোবা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশের কাজ থমকে আছে।

এছাড়া কীর্তিনাশা নদীর ওপর নির্মাণাধীন কাজীরহাট সেতুর কাজ আটকে থাকায় যান চলাচল করছে সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো সেতু দিয়ে। এতে প্রতিদিন হাজারো যানবাহনকে দীর্ঘ যানজটের কবলে পড়তে হচ্ছে, বিশেষ করে বর্ষাকালে এই ভোগান্তি কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

এলাকাবাসী ও নিয়মিত যাতায়াতকারী চালকদের মতে, পদ্মা সেতু পর্যন্ত সড়কপথের অবস্থা ভালো থাকলেও শরীয়তপুর অংশে প্রবেশের পরই শুরু হয় সীমাহীন দুর্ভোগ। ভাঙাচোরা রাস্তা ও সরু সেতুর কারণে নিয়মিতই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী যানবাহনের চালকরা জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ এই রাস্তায় ভারী যান চালানো অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জমি অধিগ্রহণের ধীরগতিকে দায়ী করা হলেও, ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের দাবি—দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ শেষ করে জনদুর্ভোগ লাঘব করা হোক। এখন দেখার বিষয়, তৃতীয় দফায় মেয়াদ বাড়ালে প্রকল্পটির বাস্তবায়নে কর্তৃপক্ষ কতটা কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করে


নিজস্ব প্রতিবেদক

নবীনতর পূর্বতন