প্রেমের টানে শরীয়তপুরের জাজিরায় পাকিস্তানের যুবক



প্রেমের কোনো সীমানা নেই—এমন প্রবাদের সত্যতা মিলল আরও একবার। এবার প্রেমের টানে সুদূর পাকিস্তান থেকে শরীয়তপুরের জাজিরায় ছুটে এসেছেন মো. মোজাম্মেল হোসাইন নামের এক যুবক। শুধু আসাই নয়, চার বছরের প্রেমের সম্পর্ককে সামাজিক ও ধর্মীয় মর্যাদায় রূপ দিয়ে বিয়ে করেছেন তার বাঙালি প্রেমিকা তানজিলা আক্তারকে।

গত শনিবার (১১ জুলাই) পাকিস্তানের লাহোর থেকে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের স্টাপল্টন শিকদার কান্দি এলাকায় তানজিলার বাড়িতে এসে পৌঁছান মোজাম্মেল। এরপর স্থানীয় ইমামের মাধ্যমে শরীয়াহ অনুযায়ী তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। ভিনদেশি যুবকের বিয়ের এই খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন উৎসুক মানুষ বর-কনেকে দেখতে ভিড় করছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জাজিরার বিলাসপুর ইউনিয়নের রহিম উদ্দিন মালাই মৃধাকান্দি গ্রামের মজিবর শিকদারের একমাত্র মেয়ে তানজিলা আক্তার। প্রায় চার বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পাকিস্তানের লাহোরের বাসিন্দা উর্দুভাষী যুবক মোজাম্মেল হোসাইনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে নিয়মিত চ্যাটিং ও ভিডিও কলের মাধ্যমে তাদের মধ্যে গভীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘ চার বছরের সেই ভালোবাসাকে পূর্ণতা দিতেই মূলত মোজাম্মেল বাংলাদেশে আসার সিদ্ধান্ত নেন।

মেয়ের মা আসমা আক্তার এই বিয়েতে ভীষণ খুশি ও আশাবাদী। তিনি জানান, ছেলের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। একমাত্র মেয়েকে এত দূরে বিয়ে দিতে মন খারাপ লাগলেও জামাতার আন্তরিকতায় তাদের মনে কোনো ভয় বা শঙ্কা নেই।

তবে এই বিয়ের আনন্দের পাশাপাশি স্থানীয় প্রতিবেশী ও স্বজনদের একটি বড় অংশের মনে দানা বেঁধেছে নানা উদ্বেগ। তানজিলার ফুফু রাত্রি আক্তার ও চাচা তোফাজ্জল শিকদার উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ইদানীং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অনেক মেয়েকে বিদেশে পাচারের খবর শোনা যায়। বিয়েতে ছেলের পরিবারের কোনো অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন না। তাই যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া মেয়েটিকে পাকিস্তানে পাঠানো বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

স্থানীয় সচেতন মহলও বিষয়টিকে কেবল ভালোবাসার গল্প হিসেবে না দেখে, নববধূর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনি প্রক্রিয়াগুলো সঠিকভাবে সম্পন্ন করার ওপর জোর দিচ্ছেন। তারা তানজিলাকে পাকিস্তানে পাঠানোর আগে পুরো বিষয়টি প্রশাসনের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ্ আহম্মদ জানান, বিষয়টি সম্পর্কে পুলিশ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য পায়নি। তবে দ্রুত খোঁজখবর নিয়ে ওই যুবকের পাসপোর্ট, ভিসাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। তদন্তে যদি কোনো ধরনের অসঙ্গতি বা সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়, তবে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।


নিজস্ব প্রতিবেদক
أحدث أقدم