ভেদরগঞ্জে সহকারী শিক্ষক কর্তৃত প্রধান শিক্ষক লাঞ্চনা, ভিডিও ভাইরাল


শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার ৮৭ নম্বর আব্বাস আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলী আসাদ মিয়া একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে শারীরিক লাঞ্ছনা, মারধর এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সখিপুর থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে নিয়মিত দেরিতে উপস্থিত হওয়া এবং বিভিন্ন সময় অনুমতি ছাড়া বিদ্যালয় ত্যাগ করার মতো অনিয়মে জড়িত ছিলেন। বিষয়টি একাধিকবার তাকে অবহিত করা হলেও তার আচরণে পরিবর্তন আসেনি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রধান শিক্ষক জানান, গত ২ জুলাই বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে দেলোয়ার হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করেন। ওই দিন উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিদ্যালয় পরিদর্শন ও একটি জরুরি সভা নির্ধারিত থাকায় তিনি ছুটি মঞ্জুর করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সহকারী শিক্ষক তাকে শারীরিকভাবে আঘাত ও লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ক্যামেরায় ঘটনার কিছু অংশ ধারণ হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। ঘটনার পর প্রধান শিক্ষক স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহীন আহমেদ বলেন, “দেলোয়ার হোসেন ছুটি চেয়েছিলেন। প্রধান শিক্ষক ওই দিন শিক্ষা কর্মকর্তার পরিদর্শনের বিষয়টি উল্লেখ করে ছুটি দিতে অপারগতা জানান। এরপর উভয়ের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।”

সহকারী শিক্ষিকা আসমা বেগম বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে মতবিরোধ ছিল। ছুটির বিষয়কে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, “আমার সন্তান অসুস্থ থাকায় ছুটি চেয়েছিলাম। বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল না। দীর্ঘদিন ধরে আমার প্রতি অন্যায় আচরণ করা হয়েছে বলে আমি মনে করি। বিষয়টির সুষ্ঠু বিচার চাই।”

সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জল হোসাইন বলেন, “একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুবকর সিদ্দিক বলেন, “অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসী ও শিক্ষক সমাজের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তাদের মতে, শিক্ষকরা সমাজ গঠনের অন্যতম কারিগর। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে নেতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেয়। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।


নিজস্ব প্রতিবেদক
নবীনতর পূর্বতন