শরীয়তপুরের বিভিন্ন এলাকায় নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের পোস্টারিং



শরীয়তপুর সদর ও নড়িয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পোস্টারিং কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকার পর স্থানীয়ঙভাবে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বৃদ্ধি পেয়েছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নড়িয়ার সুরেশ্বর লঞ্চঘাট, সুরেশ্বর বাজার, পাণ্ডিসার বাজার, আংগারিয়া পুলিশ ফাঁড়ি এলাকা, আংগারিয়া হাই স্কুল এবং পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন জনবহুল স্থানে দলীয় পোস্টার লাগানো হয়েছে। এসব পোস্টার সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দেয়াল, বিদ্যুৎতের খুঁটি এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশার পেছনে সাঁটানো হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে নারীদের হেলমেট পরিহিত অবস্থায় পোস্টার লাগাতে দেখা গেছে। পোস্টারগুলোতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা এবং স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য এনামুল হক শামীম ও ইকবাল হোসেনের ছবি সম্বলিত ব্যানার ও ফেস্টুন ব্যবহার করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধে পুলিশ প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম জানান, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে এবং তারা নিয়মিত টহল জোরদার করেছেন। পোস্টারিংয়ের সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। গত সাত দিনে এ সংক্রান্ত ঘটনায় মোট দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

দলীয় সূত্র ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সরকার পরিবর্তনের পর বেশিরভাগ নেতা আত্মগোপনে থাকলেও কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা সাংগঠনিক অস্তিত্ব প্রকাশের চেষ্টা করছেন। পুলিশের মামলা ও গ্রেপ্তার আতঙ্ক থাকা সত্ত্বেও তারা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অবস্থানে অনড় রয়েছেন।

হঠাৎ করে রাজনৈতিক এই তৎপরতা সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা অস্বস্তি ও উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, শরীয়তপুরের সামগ্রিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে রাজনৈতিক দলগুলোকে আইন মেনে চলার পাশাপাশি প্রশাসনকে যেকোনো প্রকার নাশকতা রোধে সতর্ক থাকতে হবে।



নিজস্ব প্রতিবেদক

أحدث أقدم