জলাবদ্ধ সড়কে ধানের চারা লাগিয়ে এলাকাবাসীর অভিনব প্রতিবাদ



দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের কোনো ছোঁয়া লাগেনি। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে তৈরি হয় জলাবদ্ধতা, চারদিক ঢেকে যায় হাঁটু সমান কাদায়। সড়কটির এমন বেহাল দশায় ক্ষুব্ধ হয়ে ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে কর্দমাক্ত সড়কের মাঝেই ধানের চারা রোপণ করে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার কুচাইপট্টি ইউনিয়নের ভুক্তভোগী বাসিন্দারা।

গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে উপজেলার কুচাইপট্টি ইউনিয়নের ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংযোগ সড়কে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ একত্রিত হয়ে এ অভিনব কর্মসূচি পালন করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রায় এক যুগ (১২ বছর) ধরে সড়কটি চরম অবহেলিত ও সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন মেরামত না করায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষা মৌসুম আসতেই সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কজুড়ে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়, যা একপর্যায়ে কাদায় রূপ নেয়। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, পথচারীদের বোঝার উপায় নেই এটি যাতায়াতের সড়ক নাকি ধান চাষের জমি। আর এ কারণেই প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে সড়কের জমা কাদার ভেতর ধানের চারা লাগিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।

এই সড়কটি দিয়ে ওই এলাকার প্রায় দুই হাজারেরও বেশি মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করেন। সড়কটির বেহাল দশার কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, গর্ভবতী নারী, বৃদ্ধ এবং গুরুতর রোগীরা। কাদা-পানিতে যেকোনো যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের পায়ে হেঁটে চলাও এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জরুরি প্রয়োজনে কোনো রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার মতো বিকল্প কোনো ভালো রাস্তাও নেই।

বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জানান, বিগত বছরগুলোতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে বারবার ধরণা দিয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি। বছরের পর বছর শুধু আশ্বাসের বাণীই শুনেছেন তারা, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ফলে বাধ্য হয়েই তারা এই প্রতিবাদের পথ বেছে নিয়েছেন।

এলাকাবাসীর দাবি, তাদের এই দীর্ঘ ১২ বছরের সীমাহীন দুর্ভোগের বিষয়টি অতি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে সড়কটি টেকসইভাবে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। অন্যথায় তারা আরও কঠোর কর্মসূচির ডাক দেবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।



নিজস্ব প্রতিবেদক
নবীনতর পূর্বতন