শরীয়তপুরের ডামুড্যায় বিষধর সাপের কামড়ে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না নিয়ে কবিরাজি চিকিৎসার ওপর নির্ভর করায় এই মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। গত ২৫ জুন দুপুরে ডামুড্যা উপজেলার চর নারায়ণপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত নিলুফা বেগম ওই গ্রামের সাত্তার দেওয়ানের স্ত্রী। ঘটনার দিন দুপুরে তিনি নিজ বাড়ির পেছনের বাগানে লেবু পাড়তে যান। এসময় একটি বিষধর সাপ তাঁর ডান পায়ের হাঁটুর নিচে কামড় দেয়। ঘটনার আকস্মিকতায় তিনি চিৎকার শুরু করলে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ছুটে আসেন।
নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী জানান, সাপে কামড়ানোর পর পরিবারের লোকজন তাঁকে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে না নিয়ে স্থানীয় এক কবিরাজের কাছে নিয়ে যান। সেখানে ওঝা বা কবিরাজের মাধ্যমে দীর্ঘক্ষণ ঝাড়ফুঁক ও অপচিকিৎসা চলে। ওঝার ঝাড়ফুঁকে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি না হয়ে বরং নিলুফা বেগমের শারীরিক অবস্থা দ্রুত সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। পরে বিকেলবেলা তাঁকে মুমূর্ষু অবস্থায় ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘সাপে কামড়ানোর পর ওঝা বা কবিরাজের কাছে যাওয়া একটি চরম ভুল সিদ্ধান্ত। নিলুফা বেগমকে যখন হাসপাতালে আনা হয়, ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। আমাদের হাসপাতালে সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে। সাপে কামড়ালে কোনোভাবেই ঝাড়ফুঁকের আশ্রয় না নিয়ে দ্রুত রোগীকে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসার জন্য আমরা বারবার অনুরোধ জানিয়ে আসছি।’
এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকার সচেতন মহলের মতে, আজও গ্রামীণ জনপদে সাপে কাটা নিয়ে কুসংস্কার ও অজ্ঞতা প্রবল। কেবল জনসচেতনতাই পারে এ ধরনের মৃত্যুহার কমিয়ে আনতে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রচার-প্রচারণা বাড়ানোর দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা।
নিজস্ব প্রতিবেদক
